একেই বলে শ্যাম রাখি না কুল! পাহাড়ে জোটের জটে আটকে জেরবার দশা পদ্মশিবিরের। ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা ইতিমধ্যে তিন আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও বিজেপি অথৈ জলে। তৃণমূল সুপ্রিমো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় অনীত থাপার গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চাকে সমর্থনের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। এই মুহূর্তে পাহাড়ে পদ্মশিবির কী করবে? সেই পথ পেতেই যেন কালঘাম ছুটেছে গেরুয়া শিবিরে।
এই বিষয়ে আরও খবর
পাহাড়ে তিনটি বিধানসভা আসনের মধ্যে পদ্ম শিবিরের জোটের মধ্যে বেশি জটিলতা দেখা দিয়েছে দার্জিলিং আসন ঘিরে। জানা গিয়েছে, বিমল গুরুং নেতৃত্বাধীন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মধ্যে একটি আসনের দাবিতে অনড়। এদিকে অজয় এডওয়ার্ডয়ের ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট দার্জিলিং আসন দাবি করে বসে আছে। ওই আসন থেকে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন জিএনএলএফ প্রার্থী নিরজ জিম্বা। ওই কারণে বিজয়ী আসন ছাড়তে নারাজ জিএনএলএফ। এখানেই পদ্ম শিবিরে আসন সমঝোতার জটিল জট।
জোটের ‘অস্বস্তিকর’ জট খুলতে দিল্লিতে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক চলছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা, ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট এবং জিএনএলএফ প্রতিনিধিদের মধ্যে। ইতিমধ্যে কালিম্পং আসনটি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে ছাড়তে রাজি হয়েছে বিজেপি। বাকি আসনের ভবিষ্যৎ ঝুলে রয়েছে। এমনকী বিজেপি কোনও আসনে লড়বে নাকি বাইরে থেকে সমর্থন জানাবে সেটাও ঠিক করে উঠতে পারেনি। যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের নিরিখে পাহাড়ের তিনটি আসনে লিড নিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু সেই ভোট নিশ্চিত করেছিলেন বিমল গুরুং।


এবার তিনি নেপথ্যে না-থেকে সরাসরি লড়াইয়ের ময়দানে থাকার কথা জানাতে গোল বেঁধেছে। যদিও পাহাড়ের তিন আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে অনীত থাপার দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা। একাই লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অনীত। বাইরে থেকে সমর্থন জানাবে তৃণমূল। দার্জিলিং বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার প্রার্থী হয়েছেন বিজয়কুমার রাই। কালিম্পংয়ে বিদায়ী বিধায়ক রুদেন সদা লেপচা। কার্শিয়াং বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন অমর লামা। স্বভাবতই চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে দিন কাটছে পদ্ম শিবিরের নেতৃত্বের।
ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার সুপ্রিমো অনীত থাপা বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আমাদের জোট রয়েছে। তৃণমূল আমাদের স্বাধীনভাবে লড়াইয়ের জন্য জায়গা দিয়েছে। আমাদের সিদ্ধান্তকে তারা সম্মান দিয়েছে। কিন্তু বিজেপি কাউকে সম্মান দেয় না।” যদিও তেমনটা মনে করছেন না গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি। তিনি বলেন, “আমাদের আলোচনা চলছে। এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।” একই বক্তব্য বিজেপির পাহাড় কমিটির সভাপতি কল্যাণ দেওয়ানের। তিনি বলেন, “শরিকদলের সঙ্গে আলোচনা চলছে।” প্রশ্ন উঠেছে ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণার পর আর কতদিন আলোচনা চলবে! কবে প্রচার শুরু হবে!
ইতিমধ্যে অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা প্রচারে ঝাপিয়েছে। এমনিতেই অনীত রাজনৈতিক সমীকরণে বেশ এগিয়ে আছেন। জিটিএ এবং দার্জিলিং পুরসভা ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার দখলে। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও কালিম্পং আসনে অনীত থাপার দলকে সমর্থন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ওই আসনে জয়ী হয়েছিল তারা। পাহাড়ের তিনটি আসনের কোনওটিতে সেবারও প্রার্থী দেয়নি তৃণমূল। পাহাড়ের বাকি ২ আসনে গতবার জয়ী হয়েছিল বিজেপি। পরে অবশ্য কার্শিয়াংয়ের বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বিজেপি ত্যাগ করেন। এখন তিনি তৃণমূলে। এবারের ভোট প্রচারে উন্নয়নকে হাতিয়ার করেছেন অনীত। বিরোধী শিবির কবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে প্রচারে নামে। কোন ইস্যুতে লড়াই করে, সেটাই এখন দেখার।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
