দেখতে দেখতে প্রায় তিন সপ্তাহ হয়ে গেল ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। তছনছ হয়ে যায় তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয় আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। সেই সংঘাতের রেশ চলছে এখনও। যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য। এহেন যুদ্ধে কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি কিছুটা একলা হয়ে পড়েছেন? ন্যাটোর সদস্য দেশগুলির প্রতি তাঁর সাম্প্রতিক বিষোদ্গার যেন সেদিকেই ইঙ্গিত করছে।
ঠিক কী লিখেছেন ট্রাম্প? ব্যক্তিগত সোশাল মিডিয়া ট্রুথ সোশালে তিনি ন্যাটোর উদ্দেশে আক্রমণ শানিয়ে লিখেছেন, ‘আমেরিকা ছাড়া ন্যাটো কাগুজে বাঘ!’ তাঁর দাবি, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার এই যুদ্ধ আসলে পরমাণু শক্তিধর এক দেশকে থামানোর লড়াই। কিন্তু সেই লড়াইয়ে শামিল হতে চাইছে না ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি। অথচ তেলের দাম বাড়া নিয়ে তারা অভিযোগ জানিয়ে চলেছে। ট্রাম্পের খোঁচা, ‘বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছে। তবু ওরা চেষ্টা করছে না হরমুজ প্রণালী খোলার।’ যা করতে গেলে ন্যূনতম ঝুঁকি নিতে হবে ন্যাটোর দেশগুলিকে, এমনটাই মনে করছেন ট্রাম্প। এরপরও তারা তা না করায়, ট্রাম্পের কটাক্ষ, ‘ওরা কাপুরুষ! আমরা ওদের মনে রাখব।’
বৃহস্পতিবার জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইটালি, নেদারল্যান্ডস, জাপান এবং কানাডা এক যৌথ বিবৃতিতে প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপযুক্ত প্রচেষ্টায় শামিল হওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তবে, সেই সঙ্গেই জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ ধরনের চেষ্টা সক্রিয় সংঘাতের অবসানের উপরই নির্ভরশীল।
এদিকে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক শীর্ষ সম্মেলনের পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন যে, আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা করা এবং উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তা করাই তাঁদের পক্ষে করণীয়। তিনি আরও বলেন, “আমরা এই সংঘাতের কোনও পক্ষই নই। আর তাই, বর্তমান প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত বা মুক্ত করার কোনও অভিযানে ফ্রান্স অংশ নেবে না।” বোঝাই যাচ্ছে, এই ধরনের মন্তব্যেই চটেছেন ট্রাম্প। ‘বন্ধু’দের পাশে না পেয়ে উগরে দিচ্ছেন ক্ষোভ।
সর্বশেষ খবর
