অবৈধ ধর্মান্তরণ রুখতে এবার নয়া বিল পেশ হল মহারাষ্ট্র বিধানসভায়। ‘ধর্ম স্বতন্ত্র বিল ২০২৬’ নামের এই বিলে অবৈধ ধর্মান্তর রুখতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দাবি করা হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে ধর্মান্তর রুখতে যেসব আইন আনা হয়েছে, তার চেয়ে আরও বেশি কিছু বিধি নিষেধ রয়েছে এই বিলে। ধর্মান্তরিত বিয়েতে জন্ম নেওয়া শিশু কোন ধর্মের হবে সে বিষয়েও দিশা দেওয়া হয়েছে বিলে।
আরও পড়ুন:
নয়া এই বিলে অবৈধ ধর্মান্তরের বিয়েতে জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, এই ধরনের ক্ষেত্রে শিশুর ধর্ম পরিচয় হবে বিয়ের আগে তার মায়ের ধর্মীয় পরিচয়। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও ওই শিশু তার মা ও বাবার সম্পত্তির পূর্ণ আইনি অধিকার পাবে। এছাড়া ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ধারা ১৪৪ অনুযায়ী সেই শিশুর ভরণপোষণও করতে হবে দু’জনকে। পাশাপাশি যতদিন না আদালতের নির্দেশ আসছে, ততদিন বাচ্চার কাস্টিডি মায়ের কাছে থাকবে।
ধর্মান্তরিত হতে চাইলে বয়স, পেশা, বর্তমান ধর্ম ও যে ধর্মে তিনি ধর্মান্তরিত হতে চান তার বিস্তারিত বিবরণ-সহ ৬০ দিন আগে জেলা শাসকের দপ্তরে লিখিত জমা দিতে হবে। এর ভিত্তিতে জেলাশাসক ও পুলিশ খতিয়ে দেখবে এই ধর্মান্তর স্বেচ্ছায় নাজি জোরপূর্বক।
এছাড়াও নয়া বিল অনুযায়ী, কেউ যদি ধর্মান্তরিত হতে চান তাহলে কঠোর প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে তাঁকে। বয়স, পেশা, বর্তমান ধর্ম ও যে ধর্মে তিনি ধর্মান্তরিত হতে চান তার বিস্তারিত বিবরণ-সহ ৬০ দিন আগে জেলা শাসকের দপ্তরে লিখিত জমা দিতে হবে। এর ভিত্তিতে জেলাশাসক ও পুলিশ খতিয়ে দেখবে এই ধর্মান্তর স্বেচ্ছায় নাজি জোরপূর্বক। ধর্মান্তরের পর, ধর্মান্তরিত ব্যক্তি এবং অনুষ্ঠানের আয়োজনকারী সংস্থা উভয়কেই ৬০ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে একটি ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে। তাহলেও আইনিভাবে মান্যতা দেওয়া হবে এই ধর্মান্তরকে। অন্যথায় একে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
আরও পড়ুন:
অন্যথায় যে কোনওরকম ধর্মান্তরকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করবে সরকার। সেক্ষেত্রে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ১লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। এসসি, এসটি, মহিলা ও নাবালকদের ধর্মান্তর করলে জরিমানার অঙ্ক হবে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। গণধর্মান্তরে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। একই অপরাধ একাধিকবার করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। এছাড়াও বলা হয়েছে, ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন ধর্মান্তরিত ব্যক্তি, তাদের বাবা-মা, ভাইবোন, অথবা রক্তের সম্পর্কের যে কেউ। বিবাহ বা দত্তক গ্রহণের মাধ্যমে সম্পর্কিত কোনও আত্মীয় এফআইআর দায়ের করতে পারবেন।
সর্বশেষ খবর
